সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ০৩:১২ অপরাহ্ন১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনাম :
জকিগঞ্জে ছাত্রজমিয়তের বিক্ষোভ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জে ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জে ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জে ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী আব্দুল কুদ্দুস রবিবার জকিগঞ্জ ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়ার নতুন ক্রয়কৃত জমিতে জামেয়ার মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শুক্রবার সিলেট কোর্ট পয়েন্টে সমমনা ইসলামী দলসমূহের সমাবেশ ও মিছিল শাইখুল হাদীস মাওলানা মাহমুদ হুসাইন রহ. এর ইন্তেকালে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ আলেম-উলামা ও স্কুল শিক্ষার্থীদের পর এবার ধর্ষণের বিরুদ্ধে সমাবেশ করলো পুলিশ
আদর্শ সংগঠক মাওলানা নজরুল ইসলাম

আদর্শ সংগঠক মাওলানা নজরুল ইসলাম

আমাদের জকিগঞ্জ::

♦ ত্যাগী ছাত্রনেতা। পরীক্ষিত যুবনেতা। বিচক্ষণ সংগঠক। দূরদর্শী ও সচেতন রাজনীতিবিদ। শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। বড়দের পরম স্নেহের। ছোটদের পরম শ্রদ্ধার। আস্থার প্রতীক। স্বজ্জন। সম্মোহনী শক্তির উদাহরণপুরুষ। চৌকস সমাজসেবক। বলনে ধীর। চলনে স্থীর। চরিত্রে গাম্ভীর্য। আচরণে আভিজাত্য। উচ্চারণে যাদু। দরাজ কণ্ঠের সাহসী মানুষ। আদর্শ সংগঠক। প্রশান্ত চেহারা। সুঠাম দেহ। বিস্তৃত কপাল। ব্যক্তিত্বে ভরা আপাদমস্তক। মুখভর্তি দাড়ি। চেহারায় লেগে থাকে মুচকি হাসি। দীপ্তিমান রঙ। আত্মবিশ্বাসে শক্তিমান প্রতিটি অঙ্গ। আদর্শের প্রশ্নে কঠোর। পদ-পদবীর নির্লোভ। কর্মে বিশ্বাসী নেতা। আল্লাহ নেজাম প্রতিষ্ঠার ফুরসান। নন্দিত উপস্থাপক- মাওলানা নজরুল ইসলাম।

♦ জন্ম: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া গ্রামে ১৯৭০ ইংরেজির ১৭ ডিসেম্বরে জন্মগ্রহণ করেন।

♦লেখাপড়া:
ক্লাস ওয়ান: গ্রামের আশিঘর প্রাইমারী স্কুলে।
ক্লাস টু: গ্রামের ইসহাকিয়া মাদরাসায়।
ইবতেদায়ী ২য় থেকে সারফ বা ৭ম শ্রেণি: মানিককোনা মাদ্রাসা। মাদ্রাসার ভূমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা তাঁর নানা ছিলেন।
অষ্টম শ্রেণি: নানাবাড়ি (মানিককোনা) পার্শ্ববর্তী হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।
সিলেট খোজারখলা মারকাজ মসজিদের বর্তমান ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান তাঁর মামা (আম্মার চাচাতো ভাই)। তাঁর সাথে বিয়ানীবাজার বালিঙ্গা মাদ্রাসাতে চলে আসেন। তিনি তখন সেখানে পড়াশুনা করতেন। এখানে (পুনরায়) সারফ ও নাহবেমীর পড়াশোনা করেন।

হেদায়াতুন্নাহু-দাওরায়ে হাদীস: জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর।
১৯৯৪-৯৫ সেশন। অসুস্থ শরীর নিয়ে দাওরায়ে হাদীস পড়াশুনা করেন। তবে তা আশাতীত হয়নি। এদিকে জালালাইন জামাতে দাখিল পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়নি। তাই ১৯৯৫ ইংরেজিতে বৈরাগী বাজার দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষার শেষ সুযোগ কাজে লাগান।

এদিকে দাখিল পরীক্ষা দিতে গিয়ে জিলকদ এসে গেছ। এখন কোন মাদ্রাসায় ভর্তির সুযোগ নেই। ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ। দারস শুরু হয়ে গেছে। তারপরও দাওরা আবার পড়বেন, আশা নিয়ে হাটহাজারীতে যান। গিয়ে দেখেন ভর্তির সুযোগ নেই। কার্যক্রম বন্ধ। হাটহাজারীর তখনকার মহাপরিচালক ছিলের শায়খুল ইসলাম আহমদ শফী দা.বা.। কষ্ট নিয়ে সরাসরি চলে আসেন সিলেটে। এসেই কাইদুল উলামা শায়খে কৌড়িয়া রাহ. এর খেদমতে হাজির হন। হযরত রাহ.-কে বিস্তারিত হালত জানান। হালত শুনে কৌড়িয়া রাহ. তাঁর ব্যক্তিগত প্যাড বের করে আহমদ শফী দা.বা. এর বরাবরে ১পৃষ্ঠা চিঠি লেখেন এবং নিচে দস্তখত করেন। চিঠির সারমর্ম ছিলো, ছাত্রটি আস্থাভাজন ও আমার আদরের। কোনো কারণে সে সময় মতো আসতে পারেনি হিসেবে তাকে ভর্তি করে নেয়ার অনুরোধ করেন। চিঠি নিয়ে আহমদ শফী হা. এর সাথে দেখা করতে কৌড়িয়া রাহ. তাকে বলেন।
তিনি কোন সাহসে দেখা করেন! ভয়ে যাচ্ছেনই না। তৎকালীন ইফতায় পড়তেন দরগাহ মসজিদের বর্তমান ইমাম মুফতি আসজাদ সাহেব হা. ও মুফতি আব্বাস সাহেবও। তাঁরা পরামর্শ দেন, ভয়ের কিছু নেই। চলে যান। দেখা করুন। কাজ হয়ে যাবে।
শেষে তিনি বুকে ভয় নিয়ে দেখা করেন। শায়খুল ইসলাম দা.বা. প্যাডের উপর আর নিচে এক পলক চোখ বুলান। নিচে উর্দুতে
(عبد الکريم غفر له)
স্বাক্ষর দেখেই বলে উঠেন, এই স্বাক্ষর হাটহাজারীর নিয়ম ভেঙ্গে দিয়েছে। সময় চলে গেলেও তোমাকে সুযোগ দিতে হবে। মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেবের কাছে যাও। পরীক্ষা দাও।
গেলেন। পরীক্ষা দিলেন। উত্তীর্ণ হলেন। আবার দাওরায়ে হাদীস পড়লেন।

♦ শিক্ষকতা
শরীফগঞ্জ মাদ্রাসা: ১বছর। ১৯৯৬-৯৭।
মানিককোনা মাদ্রাসা: ৩বছর। ১৯৯৮, ৯৯, ২০০০।
ফেঞ্চুগঞ্জ তাহ্ফিজুল কোরআন মাদানিয়া মাদ্রাসা। অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষাসচিব। ২০০০-বর্তমান।

♦ ছাত্র-সংগঠনে দেড়যুগ:
সহ-সভাপতি: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ, জামিয়া মাদানিয়া আঙ্গুরা মুহাম্মদপুর শাখা। ১৯৯২-৯৩-৯৪।
♦ উপজেলা:
সাধারণ সম্পাদক: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্র জমিয়ত। ১৯৯৪-৯৫।
সভাপতি: ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ছাত্র জমিয়ত। ১৯৯৫-৯৮।
♦ জেলা:
সহ-সভাপতি: সিলেট জেলা ছাত্র জমিয়ত। ১৯৯৪-৯৭।
সাধারণ সম্পাদক: সিলেট জেলা ছাত্র জমিয়ত। ১৯৯৮-২০০২।
সভাপতি: সিলেট জেলা ছাত্র জমিয়ত। ২০০৩-২০১১।
♦ কেন্দ্র:
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। ২০০২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সহ-সভাপতি: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। ২০০২ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত।
সিনিয়র সহ-সভাপতি: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। জুলাই থেকে ২০০৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
সভাপতি: ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। ২০০৪।

♦ যুবসংগঠন:
সভাপতি: সিলেট জেলা যুব জমিয়ত। ২০১১-১৪।
সহ-সভাপতি: কেন্দ্রীয় যুব জমিয়ত। ২০১১-২০১৪।

♦ রাজনীতি
সাংগঠনিক সম্পাদক: সিলেট জেলা জমিয়ত। ২০১৪-২০১৮।
সহ-সাধারণ সম্পাদক: সিলেট জেলা জমিয়ত। ২০১৮-বর্তমান।
সদস্য: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ। ২০১৫-বর্তমান।

♦ সংগঠনপ্রেমের গোড়ার কথা:
মাওলানা ফয়জুল হাসান খাদিমানী হা. তখন জামিয়া আঙ্গুরার প্রভাবশালী ও যুবক উস্তায। ঢাকা থেকে উচ্চতর শিক্ষা নিয়ে জামিয়ায় নতুন নিয়োগ হয়েছেন, জামিয়ার কৃতিশিক্ষার্থী আসআদ উদ্দীন আল-মাহমুদ হা.। তখন লাজনার দেশব্যাপী দাওয়াতী কাজ শুরু হয়েছে। গোছালো চলাফেরা ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলন দেখে, তাঁর হাতে ধরিয়ে দেন, লাজনা কী ও কেনো? বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসূচি গভীরভাবে পাঠ করে এর সাথে সক্রিয় হন। কাজ করেন দীর্ঘ দিন। শহরে এবং জামিয়াতে। ইতোমধ্যে সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় তিনি সমৃদ্ধ। ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ গঠন হলে মুরব্বীদের পরামর্শে এখানে তা কার্যকর করতে শুরু করেন।

♦ জীবনঘনিষ্ঠ সার্বিক বিষয়ের মুহসিন মুশীর: প্রেরনার মিনার, মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দীন হাফি.।
(ভারপ্রাপ্ত) সদরে জমিয়ত (৮ এপ্রিল-বর্তমান)।

♦ পারিবারিকভাবে তিনি ৪ সন্তানের জনক।
♦ বারাকাল্লাহু ফী হায়াতিহি।

♦ অনুলিপি
লুকমান হাকিম
সাধারণ সম্পাদক
ছাত্র জমিয়ত, সিলেট জেলা, ২০২০ সেশন।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT