শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনাম :
জকিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী আব্দুল কুদ্দুস রবিবার জকিগঞ্জ ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়ার নতুন ক্রয়কৃত জমিতে জামেয়ার মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শুক্রবার সিলেট কোর্ট পয়েন্টে সমমনা ইসলামী দলসমূহের সমাবেশ ও মিছিল শাইখুল হাদীস মাওলানা মাহমুদ হুসাইন রহ. এর ইন্তেকালে বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ আলেম-উলামা ও স্কুল শিক্ষার্থীদের পর এবার ধর্ষণের বিরুদ্ধে সমাবেশ করলো পুলিশ কসকনকপুর ইউনিয়ন জমিয়তের কমিটি গঠন ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন হাজীগঞ্জ যুব ঐক্য পরিষদের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত সিলেটে ফাঁড়িতে নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু, পুলিশের লুকোচুরি ধর্ষণ ও জেনা-ব্যভিচার প্রতিরোধেসমমনা ইসলামী দলসমূহের ৬ দফা: আগামী শুক্রবার বায়তুল মোকাররম থেকে গণ মিছিল
আপনিও হতে পারেন একজন ইউপি চেয়ারম্যান : ফলো করবেন নিম্নের নিয়মগুলো

আপনিও হতে পারেন একজন ইউপি চেয়ারম্যান : ফলো করবেন নিম্নের নিয়মগুলো



মাওলানা মামুনুর রশীদ|
সামনে ইউপি নির্বাচন। অনেকেই মনে মনে চেয়ারম্যানের গর্বিত আসনটির অধিকারী হওয়ার স্বপ্ন মনে মনে বুনছেন। আপনি যদি এই চেয়ারটি পেতে চান তাহলে আপনাকে সুবিশেষ কৌশল অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে। যারাই নির্বাচনে স্ট্যান্ড করবেন সকলেরই আশা থাকে তিনি পাশ করবেন। কিন্তু পাশ সেই করতে পারে যে সবচেয়ে সঠিক কৌশল অবলম্বন করতে পারে।

আমি আজ এ সম্পর্কে কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি।

১। জনকল্যাণের মানসিকতা: প্রথমে আপনার একটি সুন্দর মন লাগবে। যে মনটি চায় সবসময় মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকতে। আপনি যদি বাস্তব অর্থে মনের মধ্যে মানবসেবার আগ্রহ লালন না করেন তাহলে কোনভাবেই ভোটারদের মনে জায়গা করে নিতে পারবেন না।

২। জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ: জনকল্যাণের কথা শুধু মুখে বললে তেমন লাভ হবে না। অন্তত বছর-দুবছর আগ থেকে মাঠ পর্যায়ে কিছু কাজ করে দেখান। নির্বাচনের অন্তত ছ’মাস আগ পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে যেন উল্লেখযোগ্য পরিমান অবদানের একটি নজীর সৃষ্টি হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

৩। কিছু আগ থেকে মানুষের কাছে যাওয়া: নির্বাচন নিকটবর্তী হওয়ার পর টাকা নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়াটাকে খুব বিশ্রী দেখায়। মানুষ ভালো করে বুঝতে পারে যে, নির্বাচনের বৈতরণি পার হতেই এসব অনুদান। এতে মানুষ উপস্থিত কিছু না বললেও মনে মনে এটিকে খুব খারপভাবে নেয়। এসব অনুদানের ফলে হিতে বিপরীত হয়। তাই আপনি অন্তত বছরখানেক আগ থেকে মানুষের পিছু নিন। মানুষের দোয়ারে আপনার সেবা নিয়ে হাজির হোন। নির্বাচনের ছ’মাস আগ পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ডে অন্তত পাঁচবার হাজিরা দিন। ভোট আসার পর যে হাজিরাটা দিবেন সেটি একটু আগ থেকে শুরু করুন। ভোট নিকটবর্তী হলে আপনাকে অনেক কম বেগ পেতে হবে।

৪। গণ্যমান্য মানুষকে সামনে রেখে অনুদান প্রদান: যে ওয়ার্ডে যেদিন যাবেন সেদিনের এক সপ্তাহ আগ থেকে আপনার কর্মীদের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা করুন যে, আপনি অমুকদিন অমুক এলাকায় যাবেন। বিশেষত গণ্যমান্য মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য তারা যেন সমস্ত শক্তি নিয়জিত করে সেভাবে নির্দেশনা দিন। আপনি আসার আগে ঐ এলাকার সমস্যাগুলো এড্রেস করুন। উপস্থিত মানুষের সাথে কুশল বিনিময় করুন। তাদেরকে বলুন যে, আপনি তাদেরকে অনেক ভালোবাসেন। এই ভালোবাসার টানেই আপনি তাদের কাছে এসেছেন। আপনি আপনার এড্রেস করা সমস্যাগুলো তাদেরকে বলুন। বলুন যে, আপনি চান এই সমস্যাগুলোর একটি সুরাহা হোক। এরপর আপনি বলুন যে, আপনার মন চাচ্ছে নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সমস্যাগুলো সমাধান করতে। কিন্তু আপনার সেই তাওফিক নেই। এই বলে হাজার দশেক টাকা তাদের হাতে দিয়ে বলুন যে, অমুক কাজটি করা একান্ত জরুরি। আপনারা এইটুকু টাকা নিন আপনারা এই কাজটি শুরু করুন, আমি আপনাদের সাথে সামান্য শরীক হলাম। এভাবে প্রতিটি ওয়ার্ড এক এক করে সফর করুন।

৫। একটি ট্রাস্ট গঠন : জনকল্যাণের জন্য একটি ট্রাস্ট গঠন করুন। ট্রাস্টে এলাকার গণ্যমান্য মানুষকে সদস্য বানান। পরিস্থিতি বুঝে তাদের কাছ থেকে কিছু চাঁদা করুন নতুবা তাদেরকে আপনার সাথে থাকার জন্য কিছু উপহার দিন। তাদের সাথে এই ট্রাস্ট সংক্রান্ত লেনাদেনার একটি সম্পর্ক তৈরি করুন। এই ট্রাস্টের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, কৃতি ছাত্র সংবর্ধনা, গুণীজন সংবর্ধনা, কৃষিপণ্য বিতরণ, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ, ঈদ বা রামাযান সামগ্রী বিতরণ, ফ্রী চিকিৎসা সেবা প্রদান, ফ্রী খাতনা ক্যাম্প ইত্যাদি আয়োজন করুন। কিন্তু একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে যেন এই ট্রাস্টের অনুদানের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে।

৬। অন্তত ২০ লক্ষ টাকার ব্যবস্থা রাখা: টাকা খরচ ছাড়া নির্বাচন এখন আকাশ-কুসুম কল্পনা। এখনকার যোগে অন্তত অর্ধলক্ষ টাকা খরচ না করলে মানে সম্মানে ফেল করাও মুশকিল। কিন্তু আপনি যদি সঠিক প্ল্যান নিতে পারেন তাহলে লাখ বিশেক খরচ করেও আপনার স্বপ্ন পূর্ণ হতে পারে। আপনি হিসেবটা এভাবে করতে পারেন যে, প্রতিটি ওয়ার্ডে দশ ধাপে অন্তত এক লক্ষ টাকা করে পৌঁছবে। এবং এগুলো অবশ্যই ছ’মাস আগে সম্পন্ন করতে হবে। দশটি ধাপ এরকম যে আপনি পাঁচবার করে সরাসরি প্রতিটি ওয়ার্ডে যাবেন এবং প্রতিবার দশ হাজার টাকা করে অনুদান দিবেন। এর মাধ্যমে আপনার খরচ হলো ওয়ার্ডপ্রতি ৫০,০০০ টাকা। এর বাইরে ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রতি ওয়ার্ডে আরও ৫০,০০০ টাকা করে পৌঁছান। বাকি ১১ লক্ষ টাকা আপনার নির্বাচনী খরচের জন্য রেখে দিন।

৭। ব্যাপক প্রচারণা: আপনি যে মানুষের কাছে যাচ্ছেন, অনুদান দিচ্ছেন, বিভিন্ন সেবামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন এসবগুলো বিষয় ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রচারণার জন্য আপনার কর্মীদেরকে নির্দেশ দিন। পাশাপাশি স্থানীয় অনলাইন পত্রিকাগুলোতে এগুলোর নিউজ করানোর ব্যবস্থা করুন।

৮। মাস্টারপ্ল্যান: আপনি মানুষের সেবা সংক্রান্ত একটি মাস্টারপ্ল্যান করুন। আপনার মনটি মানুষের সেবায় যত বেশি আগ্রহী থাকবে আপনার প্ল্যান তত সুন্দর হবে। এলাকার মানুষের সামজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত, উন্নয়ন, বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে আপনি সুন্দর একটি প্ল্যান করুন। এই প্ল্যানের একটি হার্ডকপি তৈরি করুন।

৯। প্ল্যানের প্রচারণা: এলাকার গণ্যমান্য মানুষকে নিয়ে একটি সভা করুন। এখানে সর্ব সাধারণকে দাওয়াত দিন। সামান্য কিছু ভোজনের ব্যবস্থা রাখুন। এখানে আবেগী ভাষায় আপনার প্ল্যানটি মানুষের সামনে উপস্থাপন করুন। উপস্থাপনের সময় উপস্থিত সকলের হাতে একটি করে হার্ডকপি দিন। আপনার প্ল্যান সম্পর্কে ইতিবাচক হৃদয়গ্রাহী আলোচনা করতে পারবেন এমন একাধিক লোককে আগ থেকে স্টেজে প্রস্তুত রাখুন। আপনার প্ল্যান উপস্থাপনের পর তারা যেন এটির এমন ব্যাখ্যা প্রদান করে যা মানুষের হৃদয় ছুয়ে যায়।

১০। প্ল্যান সংক্রান্ত পোস্টারিং: আপনার প্ল্যান সংবলিত একটি পোস্টার তৈরি করে এটি পুরো ইউনিয়ন জোড়ে সাঁটানোর ব্যবস্থা করুন।

১১। কথায় বার্তায় মানুষের প্রতি আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ: মানুষের সাথে কথায় বার্তায় আপনি বলুন যে, মানুষের দুঃখ কষ্ট দেখলে আপনার কীরকম লাগে, দুঃখী মানুষের জন্য আপনি কী করতে চান, দুঃখী মানুষের মুখের হাসি আপনাকে কী পরিমাণ আপ্লুত করে, এলাকার মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য আপনি কী করতে চান। এ বিষয়গুলোকে আপনার কথায় বার্তায়, বিভিন্ন বক্তৃতায় আবেগপূর্ণ ভাষায় উপস্থাপনের চেষ্টা করুন।

১২। পেছনে হেলান দেয়ার মত লোক রাখা: আপনি চেয়ারম্যান হয়ে গেলেই আপনার কাজ শেষ নয়। আপনার পেছনে জেগ দেওয়ার মত লোক যদি না থাকে তাহলে আপনি যতই সৎভাবে দায়িত্ব চালান আপনি চোর সাব্যস্ত হতে বেশি দিন লাগবে না। তাই যে কোন খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য আপনার একটি শক্ত বাহিনী থাকতে হবে, যারা আপনাকে প্রাণবাজি রেখে সহায়তা করবে।

১৩। তিনটি সময় মানুষ মানুষের আন্তরিকতাকে স্মরণ রাখে: অসুস্থতার সময়, বিয়ে সাদীর সময় এবং কেউ মারা গেলে। তাই এই তিন সময় মানুষের সামনে যত বেশি আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে পারবেন মানুষের মনে আপনি তত বেশি জায়গা করে নিতে পারবেন।

১৪। সালাম ও কুশল বিনিময়: আপনাকে অবশ্যই সালাম ও কুশল বিনিময়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চাই ছোট হোক বা বড় হোক যে কাউকে পেলে সালাম করুন এবং তার অবস্থা সম্পর্কে দু’একটি প্রশ্ন করুন। ছাত্রদেরকে তাদের লেখাপড়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। তাদেরকে বেশি করে পড়ার উৎসাহ দিন। বড়দের সাথে কথা বলার সময় তাদের কুশলাদির পাশাপাশি তাদের সন্তানদের নাম ধরে বলুন যে, আপনার অমুক সন্তানের খবর কী, অমুক মেয়ের কি বিয়ে হয়ে গেছে, অমুক মেয়ের সংসার কেমন চলছে? ইত্যাদি প্রশ্ন করুন।

মোটামুটি এই পয়েন্টগুলো ফলো করলে আপনি যদি পাশ না করেন তাহলে অন্তত মানসম্পন্ন একটি পরিমাণ ভোট ফেল করবেন; তবে পাশ করার আশাটা একটু বেশিই করতে পারেন।

বি. দ্র: পোস্টটি পড়ে কেউ সামান্য উপকৃত হলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

শেয়ার করুন
  • 189
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT