শুক্রবার, ০৫ মার্চ ২০২১, ১০:৩৫ অপরাহ্ন২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সংবাদ শিরোনাম :
জামিয়া মোহাম্মদিয়া হাড়িকান্দী মাদরাসার ১০৩তম বার্ষিক মহাসম্মেলন শনিবার জকিগঞ্জ থানার নতুন অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কাসেম অনলাইন ভিত্তিক টিভি চ্যানেল ‘মাহফিল টিভি সিলেট’ এর নতুন কমিটি গঠন শাহ শাহাবুদ্দিন রাস্তায় স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করলেন এলাকাবাসী জকিগঞ্জে ঘর পুড়ে ছাই, খোলা আকাশের নিচে এক পরিবার! সিলেটি ভাষায় শিরকী শব্দের বহুল ব্যবহার, ভাবনার বিষয় জামেয়াতুল খাইরে লন্ডন প্রবাসী মাওলানা আব্দুর রব সংবর্ধিত জামেয়াতুল খাইরে লন্ডন প্রবাসী মাওলানা আব্দুর রব সংবর্ধিত মকুলের স্বপ্ন ভাঙার তিন বছর আজ সুজন চৌধুরীর পৃষ্টপোষকতায় জকিগঞ্জে ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্পন্ন
জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচন: মেয়র প্রার্থীদের হালচাল

জকিগঞ্জ পৌর নির্বাচন: মেয়র প্রার্থীদের হালচাল

জকিগঞ্জ পৌর এলাকায় বইছে নির্বাচনী হাওয়া। কে কত ভোট পাবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে চায়ের কাপে ঝড় উঠছে। বিগত পৌর নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার নানা কারণে নির্বাচনী হিসেব-নিকেশ বেশ খানিকটা জটিল হয়ে পড়েছে। মেয়র প্রার্থীদের সংখ্যাধিক্য ও তাদের পারস্পরিক ভোটব্যাংক ভাগাভাগিই মূলত তৈরি করেছে এ জটিলতা।

এবার ১ নং ওয়ার্ডে মেয়র পদে কোন প্রার্থী না থাকলেও ২ নং ওয়ার্ডে আছেন দুই জন প্রার্থী। দুই জনই এর আগে মেয়র পদে জিতেছেন, তবে জাতীয় পার্টির আব্দুল মলেক ফারুক এক উপনির্বাচনে জিতলেও পরবর্তীতে ধরে রাখতে পারেননি নিজের গ্রহণযোগ্যতা। গত নির্বাচনে তার অবস্থান থেকেই বোঝা যায় সে বিষয়টি। এবারের নির্বাচনে তার জনপ্রিয়তার পারদ খুব একটা বাড়েনি, উল্টো বাড়ির পাশে আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী থাকায় তার আশা আরো কমছে বলে মনে হচ্ছে।।

২ নং ওয়ার্ডে আরো আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ। ক্লিন ইমেজের নেতা ইকবাল আহমদের জনপ্রিয়তা পুরো জকিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এবারের নির্বাচনে আগের তুলনায় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হচ্ছেন তিনি। তবু সাবেক মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তা ও পরিচিতির কারণে ভোটের ময়দানে আলোচনায় রয়েছেন তিনি।

৩ নং ওয়ার্ডে এবার কাউন্সিলরের চেয়ে মেয়র পদপ্রার্থীর সংখ্যা বেশি। পৌর এলাকায় আওয়ামীলীগের ঘাটি বলে পরিচিত এ ওয়ার্ডে প্রতীকধারী ও বিদ্রোহী মিলিয়ে আওয়ামীলীগেরই প্রার্থী আছেন ৩ জন। আছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হিরা।

এবারের নৌকার মাঝি গতবার জিতেছিলেন ৩ নং ওয়ার্ডের ভোটের জোরে। এবার সেখানে তার সাথে লড়ছেন তারই ভাতিজা সাবেক মরহুম মেয়রপুত্র বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল আহাদ। গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক ফারুক আহমদ তো আছেনই। বয়সে অন্যদের চেয়ে তরুণ হলেও আহাদের ভোট টানার ক্ষমতা রয়েছে। ফলে খলিল ও ফারুকের ভোট গতবারের চেয়ে কমতে পারে অনেক। অবশ্য সাবেক মেয়রপুত্র আহাদ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভোট কাটলেও নিজ ওয়ার্ডে এতো প্রদ্বন্দ্বী ডিঙিয়ে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবেন না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ।

সরকার দলের প্রতীক নিয়ে মাঠে নামতে পারলে আহাদ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান মেয়র গত পাঁচ বছরে নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে জনগণের চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য বড় ধরনের উন্নয়ন খুব বেশি করতে পারেননি। নানা কারণে দলীয় কর্মীদের সাথেও দূরত্ব রয়েছে বলে আওয়ামীলীগ দলীয় সূত্রে জানা যায়।

৩ নং ওয়ার্ডের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন হীরা জকিগঞ্জের ছাত্র রাজনীতির পরিচিত মুখ ও শিক্ষিত-সজ্জন ব্যক্তিত্ব। তবে ভোটের রাজনীতিতে তার অবস্থান একেবারেই নতুন, তদুপরি দলীয় সমর্থনও তিনি পাননি।

জাফরুল ইসলাম গতবার খেলাফত মজলিসের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও এবার আবার লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে। ফলে দলীয় সহযোগিতার অভাবে গতবারের চেয়েও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে পারেন তিনি।

সকল প্রার্থীর ভোট ব্যাংকে যখন এবার ভাগাভাগি হতে যাচ্ছে, তখন মাওলানা কাজী হিফজুর রহমানই একমাত্র হেভিওয়েট প্রার্থী, যাকে কোন ধরনের ভাগ-ভাটোরার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। গত নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ভোট ব্যাংকে এবার নতুন প্রার্থীর আগমণ হলেও তিনি তার বিশাল ভোট ব্যাংকে এবারও একক প্রার্থী।

এদিকে এবার ইসলামী ঘরানায় অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় এই আলিম প্রার্থীর বাক্সেই পৌরসভার ইসলামী ঘরানার ভোটসমূহ যাবে বলে ধারণা করছেন ভোটাররা।

সব মিলিয়ে ইসলামী ঘরানার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি পেতে পারেন কাজী, সাথে নিজ ভোটব্যাংকের সর্বাত্মক সমর্থন পাচ্ছেন আগের চেয়ে বেশি।

ভোটের ময়দান এখনও চরম উত্তপ্ত। সময় শেষ হয়ে যায়নি পুরোপুরি। ফলে হিসাব-নিকাশে বহু উলট-পালট হতে পারে এখনো। তবু সার্বিক পরিস্থিতির বেশকম খুব হবে না।

তবে একটা বিষয় অনস্বীকার্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল ও সাবেক মেয়রপুত্র আহাদ নির্বাচনে দাঁড়িয়ে পুরো জকিগঞ্জের নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছেন বহুগুণ। এই দুই প্রার্থীর ফলাফল যাই হোক, হিসাব-নিকাশ বদলে ফেলার মতো সক্ষমতা নিয়েই তারা মাঠে নেমেছেন।

এদিকে কাজী মাওলানা হিফজুর রহমান গত নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় এবার ভোটের ময়দানে সার্বিকভাবে আরো শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন পৌর এলাকার ভোটারগণ।

সব জল্পনা-কল্পনার সমাপ্তি হবে ত্রিশ তারিখ। সেদিন ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত যেন সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় থাকে, জনগণের ভোটে যেন অন্য কোন শক্তি প্রভাব না ফেলে, সেই প্রত্যাশা নিয়ে জকিগঞ্জ পৌরবাসীর অদম্য আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। সে পর্যন্ত শীত কালে নির্বাচনী উত্তাপ ভালোভাবে উপভোগ করতে চায় জকিগঞ্জবাসী।

সৌজন্যে: জকিগঞ্জভিউ২৪.কম।

শেয়ার করুন
  • 18
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  





themesba-zoom1715152249
©সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত।
Developed By: Nagorik IT